যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযানে ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ PM ৪০
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযানে ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত সেনা মোতায়েন না হওয়া, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেতে বিলম্বের কারণে উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সামরিক সূত্র ও কূটনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শনিবার (১৮ জুলাই) একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত জুনে সংঘটিত ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) এবং কয়েকজন বিশেষজ্ঞের ধারণা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা রাজ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। ফলে দুর্যোগের পর প্রথম দুই দিন মূলত স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও নিহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। পরে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী, বেসামরিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং সীমিতসংখ্যক ভেনেজুয়েলার সেনাসদস্য উদ্ধারকাজে যুক্ত হন।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে উদ্ধারস্থলে দেরিতে পৌঁছানোর অভিযোগ উঠলেও সরকার তা অস্বীকার করেছে। রদ্রিগেজ দাবি করেন, ভূমিকম্পের পরপরই চার হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যে সেই দাবির সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা গেছে।

কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি এবং কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ধীরগতির অন্যতম কারণ ছিল ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা পেতে বিলম্ব, সংকট ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তারা নিজ উদ্যোগে কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না পেলে ইউনিটকে মাঠে নামানোর সুযোগও থাকে না। তিনি আরও জানান, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য তাদের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা প্রস্তুত ছিল না। আরেক কর্মকর্তা জানান, ২৪ জুনের ভূমিকম্পের পরদিন তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে পর্যাপ্ত রসদ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অভিযান শুরু করা সম্ভব ছিল না। তার মতে, রাজধানী কারাকাসে অবস্থানরত সেনাদের অন্তত দ্রুত সহায়তার জন্য পাঠানো উচিত ছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, দুর্যোগের পর সর্বত্র বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কে উদ্ধার কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন এবং কীভাবে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে কাজে লাগানো হবে—এ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। ফলে প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও অনেক প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। আরও কয়েকটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনা পাঠানোর জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব ছিল। পাশাপাশি হাতুড়ি, কোদাল, ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম এবং নাইট ভিশন-সক্ষম হেলিকপ্টারের মতো জরুরি উপকরণের সংকটও উদ্ধার অভিযানের গতি কমিয়ে দেয়।

ভেনেজুয়েলার এই দুর্যোগে উদ্ধার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা, জরুরি পরিকল্পনা এবং সামরিক সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত কমান্ড কাঠামো এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!