যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৪ AM | সর্বশেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ PM ৩৩
১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। টানা দুই সপ্তাহ ধরে মজুত কমার পর দেশটির জরুরি তেল ভান্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কৌশলগত তেল মজুত থেকে আরও ৫১ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। এর ফলে মোট মজুত দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেলে। এর আগের সপ্তাহেও মজুত কমেছিল প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের মার্চের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের সর্বনিম্ন মজুত। এর পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে তেল ছাড়ার প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১০ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমেছে।

আন্তর্জাতিক জরুরি তেল সরবরাহ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন মোট ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশটির জরুরি মজুত দ্রুত কমে এসেছে।

এদিকে গত ১০ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত তেল মজুত মিলিয়ে মোট পরিমাণ ছিল ৭২ কোটি ৬২ লাখ ব্যারেল, যা ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। ১৭ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহের সর্বশেষ তথ্য আগামী বুধবার প্রকাশ করবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত তেল মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বর্তমানে মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের ভূগর্ভস্থ লবণ গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব গুহায় সর্বোচ্চ প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে এখন মজুত পুনর্গঠন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!