যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬,১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ PM

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

ছবি : রয়টার্স

ইরানের মাহান এয়ার ও আইআরজিসিকে সহায়তার অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ ও লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইরানের বিমান সংস্থা মাহান এয়ার এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)কে সহায়তার অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের একটি বহুজাতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আর্থিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস সহায়তা দিয়ে আসছিল।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানায়, ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, মাহান এয়ার দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসির কুদস ফোর্সের পরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বিমান সংস্থাটি অস্ত্র, ড্রোন এবং সামরিক সদস্য পরিবহনে ভূমিকা রেখেছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, যারা আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক, বাণিজ্যিক কিংবা লজিস্টিকস সহায়তা দেয়, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করছে। এ ধরনের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে চীনের সাংহাই উইংস ইন্টারন্যাশনাল লজিস্টিকস কোম্পানি, সাংহাই এলিট ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ট্যাং শিন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ইরানে ইলেকট্রনিক পণ্য পরিবহন এবং মাহান এয়ারের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সহায়তা করেছে।

এ ছাড়া ভারতের স্কাইজ ট্র্যাভেলস অ্যান্ড লজিস্টিকস প্রাইভেট লিমিটেড এবং রাশিয়ার এয়ার কার্গো প্রো লিমিটেডের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, প্রতিষ্ঠান দুটি মাহান এয়ারের পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে।

ইরানের ডেডনেগার নামের একটি প্রতিষ্ঠানও নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি আইআরজিসির আড়াল হিসেবে কাজ করেছে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তাদের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পরোক্ষ বা সেকেন্ডারি স্যাংশনের ঝুঁকিতেও পড়তে পারে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ হারাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সামরিক ও আঞ্চলিক কার্যক্রমে সহায়তাকারী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!