ছবি : রয়টার্স
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৬০ জন আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৪৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার সর্বশেষ প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা সংক্রমণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাসের মধ্যেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৪৮৭ জন। এতে মৃত্যুহার প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি প্রদেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব অঞ্চলে চলমান সংঘাত, নিরাপত্তা সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দারা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পূর্বাঞ্চলের রওয়ামপারা এলাকার বাসিন্দা ডেবোরাহ এনজুভা বলেন, চলমান সংকটের মধ্যেই ইবোলা মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তার আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে যেতে পারে।
ডিআর কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ গত ১৫ মে বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে সংক্রমণের গতি দেশটিতে এর আগে রেকর্ড হওয়া ১৬টি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের যেকোনোটির তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সে সময় ডিআর কঙ্গোতে মোট ৩ হাজার ৪৭০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।
দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনপিএইচআই) ইবোলা প্রতিরোধ কর্মসূচির প্রধান অধ্যাপক পিয়েরে আকিলিমালি বলেছেন, সংক্রমণ এখনও দ্রুত বাড়ছে এবং পরিস্থিতি কবে নিয়ন্ত্রণে আসবে বা সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!