যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২৬,১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইন অনুযায়ী পর্যালোচনায়, জানাল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ PM

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ আইন অনুযায়ী পর্যালোচনায়, জানাল ভারত

শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে বলে লোকসভায় উপস্থাপিত সংসদীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো অনুরোধ বর্তমানে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে। বিষয়টি ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় উপস্থাপিত পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) লোকসভায় উপস্থাপিত ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আদালতের দেওয়া রায়ের পর বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানায়। এ বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য জানতে চেয়েছিল সংসদীয় কমিটি। জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, প্রত্যর্পণের আবেদন বিদ্যমান আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুসারে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির মানবিক নীতি ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ঐতিহ্যের আলোকে বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো বিদেশি নাগরিককে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও এমন সুযোগ দেওয়া হবে না।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি রয়েছে ১৯৭৪ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ আইন এবং ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে। ২০১৬ সালে সংশোধিত এই চুক্তি অনুযায়ী, এক বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের আবেদন করা যায়।

তবে চুক্তিতে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে হত্যা, অপহরণ ও নাশকতার মতো গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এছাড়া কোনো রাষ্ট্র চাইলে নিজ দেশের নাগরিককে প্রত্যর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব, ন্যায়বিচারের স্বার্থ কিংবা অন্যান্য আইনি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগও চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু কেবল আইনি নয়, বরং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!