যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই তেলের বাজারে বড় ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২২ AM | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৬ PM ২৮

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসার ইঙ্গিত মিলতেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) এশিয়ার লেনদেনে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়।

 

কেন কমল তেলের দাম?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর ফলে তেলের বাজারে যে অতিরিক্ত ঝুঁকির প্রিমিয়াম যোগ হয়েছিল, তা দ্রুত কমে যায়।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করেছে।

 

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।

 

বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কায় তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছিল।

তবে হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে তেলের দামে আরও স্থিতিশীলতা দেখা যেতে পারে।

 

সতর্ক অবস্থানে ইরান

অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মজিদ ইবনে আল-রেজা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ও পদক্ষেপ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!