পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র। তবে সম্ভাব্য মুক্তির বিনিময়ে তাকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং দেশ ছাড়ার মতো শর্ত দেওয়া হতে পারে বলেও দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরান খান চলতি সপ্তাহে একাকী কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ইমরান খানের পরিবারের অভিযোগ, গত সাত মাসের বেশি সময় ধরে তাকে বাইরের দুনিয়া থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এমনকি বোনদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
তার দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিম খান এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে তাদের বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তার সঙ্গে স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।
ইমরান খানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও দাবি করেছেন, তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যগত কারণ বিবেচনায় তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দ্য অবজারভার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সূত্র ও ইমরান খানের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগে সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এর বিনিময়ে কয়েকটি শর্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-পাকিস্তান ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়া, রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা। তবে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, তিনি এমন কোনো শর্ত মেনে নেবেন না।
মানবাধিকার আইনজীবী ও ইমরানের বন্ধু ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ বলেন, তিনি চান না ইমরান খান কারাগারে মারা যান। তবে তার ধারণা, ইমরান দেশ ছেড়ে যাওয়া বা রাজনীতি ছাড়ার মতো শর্তে রাজি হবেন না।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী সম্ভাব্য সমঝোতার খবর অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হলে তা সরকারের সঙ্গেই হবে এবং এতে সামরিক বাহিনীর কোনো ভূমিকা নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং স্বাস্থ্যগত কারণে জামিন দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তার মামলাগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড পান ইমরান খান। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অভিযোগ করে আসছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে বন্দি রাখা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!