যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৪ আগস্ট ২০২৬,১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা, ‘পররাষ্ট্রনীতি নতজানু হবে না’ বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৭ PM

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা, ‘পররাষ্ট্রনীতি নতজানু হবে না’ বার্তা

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প, এআই দিয়ে বানানো ছবি

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা ও প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আর নতজানু হবে না—এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।

তিনি বলেন, নদী ও পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নয়, বরং দেশের জনগণ, নদী ও প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দ্য পদ্মা ব্যারাজ: প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল করপোরেশন ফাউন্ডেশন।

ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদী ব্যবস্থাপনা ও পানিবণ্টন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার পিছপা হবে না।

তিনি বলেন, নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বজায় রাখা এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করাই লক্ষ্য। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তার মতে, প্রকল্পটি দেশের জিডিপিতে প্রায় ০.৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে এবং ২০৩৩ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।

ড. তিতুমীর বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সরকার পানি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। বিদেশি বিভিন্ন পরিকল্পনার প্রভাব নিয়েও নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ ও প্রকৃতির বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের সামগ্রিক পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।

তিতুমীর জানান, প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে নতুন নকশা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, লবণাক্ততা কমানো, পলি অপসারণ এবং জলাবদ্ধতা হ্রাসে কাজ করা হবে। সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পানিসংকট মোকাবিলায়ও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!