ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন এই শুল্ক চালু হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও জটিল হয়েছে।
কানাডার নতুন শুল্কের হার পণ্যের ধরন অনুযায়ী ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। তালিকায় রয়েছে ৭০০টির বেশি মার্কিন পণ্য। ইস্পাত, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, কৃষি সরঞ্জাম, বস্ত্র, ভোগ্যপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য এর আওতায় পড়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগস্টের শেষ দিকে জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের আরোপ করা শুল্কের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছিল তাঁর সরকার।
এর আগে জুলাইয়ে কানাডার কয়েকটি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রতি কানাডার ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আগস্টে দুই দেশ বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করে। তবে ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এরপর কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে।
কানাডা সরকার জানিয়েছে, পাল্টা শুল্কের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ও মাঝারি ব্যবসা এবং শ্রমিকদের সহায়তায় ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ দেওয়া হবে।
শুল্ক বিরোধের প্রভাব বাণিজ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রির পথ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন শুরু না করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক ঘিরে অন্যান্য বিরোধও সামনে এসেছে। এর মধ্যে অন্টারিও হ্রদের নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
কানাডার পাল্টা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতারাও চাপে পড়তে পারেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত গাড়ির অন্যতম বড় বাজার কানাডা।
অন্যদিকে, কানাডার পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের প্রভাব মার্কিন ভোক্তাদের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের আর্থিক বোঝার প্রায় ৯৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত দেশটির আমদানিকারক ও ভোক্তাদের বহন করতে হতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!