সচিবালয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান; ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হবে বলে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ বিবেচনায় জনগণের কাছ থেকে কিছুটা সহনশীলতা প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে গত দুই-তিন দিনে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলেও অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। তাঁর মতে, এই উচ্চমূল্য দীর্ঘ সময় থাকার সম্ভাবনা কম হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও অবনতির ঝুঁকি রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপও বড় হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভর্তুকির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে মানুষের দুর্ভোগ তৈরি হবে। তবে সরকারের সীমিত সম্পদের মধ্যে জ্বালানি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—সব খাতে একই সঙ্গে বড় অঙ্কের ভর্তুকি ও ব্যয় চালিয়ে যাওয়া কঠিন। তাই বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজন হয়েছে।
গ্যাসের সংকট ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের আর্থিক চাপ আরও বাড়ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের আড়াই মাসের মধ্যেই এর প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়ে গেছে। একই গতিতে ভর্তুকি দিতে হলে অর্থবছরের শেষে ব্যয় সোয়া এক লাখ থেকে দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে ব্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য খাতের ব্যয়ও ভারসাম্যের মধ্যে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন তিনি। জাহেদ উর রহমান জানান, দীর্ঘদিন বেতন স্কেল সংশোধন না হওয়ায় বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। তবে একবারে পুরো নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় স্বাভাবিক হয়েছে বলেও দাবি করেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর ভাষ্য, আগস্টে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে কেটে গেছে এবং সংকটের আগে দেশে যে মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ করা হতো, পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সরকার পরিবহনের ভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবে বলে জানান উপদেষ্টা। এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর বক্তব্য, সরকার বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছে না। বিরোধী দলের লংমার্চ ও এক দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে এবং থাকবে—বিরোধী দলকে এই বাস্তবতা মেনে রাজনীতি করতে হবে। সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাতেও তিনি রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে না বলে মন্তব্য করেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!