জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী; ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বর্তমান বিরোধী দলের কোনো অংশ জড়িত কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। সেখানে রিজভী রাজধানীর মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুলে বাসে আগুন, ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
রিজভী বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস-ট্রেনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শুধু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ জড়িত, নাকি বর্তমান বিরোধী দলেরও কোনো অংশ এতে যুক্ত—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের এ অংশটি রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; কারা এসব ঘটনায় জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত বা আইনগত প্রক্রিয়ার তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনার বিষয়।
সাম্প্রতিক কয়েকটি অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার খবরও এসেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রিজভী আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লংমার্চের মতো কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের এসব অগ্নিসংযোগ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়া উচিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা এবং রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনাও তিনি আলোচনায় আনেন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, সাড়ে চার শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে এমন কর্মসূচি জনগণের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি করতে পারে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচির কোনো সাদৃশ্য তৈরি হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রিজভী একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হলেও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি বা লোকসান থাকছে। সাম্প্রতিক অন্যান্য প্রতিবেদনেও তিনি একই অঙ্কের লোকসানের কথা বলেছেন।
আর্থিক খাতের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আর্থিক খাতে অনিয়ম না করে সরকার পরিস্থিতি গুছিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এর ফলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরছে।
আলোচনার শেষ দিকে একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে দলটি আস্থা হারিয়েছে এবং এখনো সমালোচনাতেই ব্যস্ত রয়েছে। তবে বক্তব্যে তিনি সংশ্লিষ্ট দলের নাম উল্লেখ করেননি।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!