যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনার দাবি এবি পার্টির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ PM ৪৮
জ্বালানি তেলের দাম পুনর্বিবেচনার দাবি এবি পার্টির

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের নতুন দাম প্রত্যাহার করে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও জনবান্ধব নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

দুই নেতা বলেন, একসঙ্গে লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, এর প্রভাব শুধু জ্বালানি ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা দাবি করেন, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আগে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে আশ্বস্ত করা হলেও এবার হঠাৎ করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় শুধু ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ানোই সমাধান নয়। বরং জ্বালানি খাতে অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

মঞ্জু ও ফুয়াদ জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের পাশাপাশি জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নীতিতে সাধারণ মানুষের সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে মূল্য সমন্বয়ের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বড় অঙ্কের লোকসানের কথাও সরকারি ব্যাখ্যায় এসেছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!