যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬,২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ককটেল হামলার তথ্য মিলবে: রাশেদ খান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩২ PM ৫৫
পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ককটেল হামলার তথ্য মিলবে: রাশেদ খান

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাশেদ খান; ছবি: সংগৃহীত

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বাস ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ বক্তব্য দেন।

রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হলে রাজধানীতে আর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় জানা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যের উল্লেখ করলেও, তাঁর বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর স্বাধীন তদন্তের কোনো ফল তুলে ধরা হয়নি।

বিএনপি সরকারকে একদিকে ১১ দলীয় জোট এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিরোধিতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগামী ডিসেম্বর থেকে বিরোধী পক্ষগুলো নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর ভাষ্য, সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের মতো কর্মসূচিকে তিনি স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না। কর্মসূচির নামে ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করেই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে ভর্তুকির মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাশেদ খান। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকবে না বলে তিনি দাবি করেন।

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। রাশেদ খানের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি থাকার পরও কখনো আদানি বিদ্যুৎ দিচ্ছে, আবার কখনো সরবরাহ বন্ধ রাখছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর জন্য অনেকে সক্রিয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর প্রসঙ্গে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দেশের বাইরে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!