যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বিরোধী মত দমনের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৯ PM ৫
বিরোধী মত দমনের চেষ্টা বরদাশত করা হবে না: শফিকুর রহমান

কারামুক্তির পর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের বক্তব্য ও প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে জামায়াত সরে আসবে না। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে মানুষের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রেখেছেন, একইভাবে তাঁদের লড়াই চলবে। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তির প্রতিবাদে আখতারুজ্জামানের ভূমিকার প্রশংসা করে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর গ্রেপ্তারের পর বিমানবন্দরের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ট্রলির সংকট নিয়ে তিনি যে অভিযোগ তুলেছিলেন, পরে দুই দফায় সেখানে ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। লাগেজ কাটা ও চুরির অভিযোগের পর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরাও সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন যাত্রীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাচ্ছেন বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।

আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শফিকুর রহমানের ভাষ্য, বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং দূতাবাস ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁর মতে, ওই প্রতিবাদের ফলে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তাঁর বক্তব্য, নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে আখতারুজ্জামানকে হাইকোর্টে যেতে হয়েছে। সেখানে জামিন পাওয়ার পরও তাঁকে চেম্বার আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনা সরকারের জন্য বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের ব্যর্থতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, বিরোধীদের চরিত্রহননের চেষ্টা না করে সরকারের উচিত মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়া। অতীতের মতো কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতিতে প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা হলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, কারাবরণ তাঁর কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে তাঁর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সরকারের ভেতরের চিত্র ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আখতারুজ্জামান জানান, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও ভাবা প্রয়োজন।

গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলির সংকট এবং জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

এ ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব। ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর সেনানিবাস এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দায়রা আদালতেও জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদলীয় নেতা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!