যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় ছাড়াল ৩৩৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ PM ৬
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় ছাড়াল ৩৩৫ কোটি ডলার

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার মধ্যেও রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ১১ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩০০ কোটি ডলার। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরে দেশটির বাজারে আয় বেড়েছে ৩৫ কোটি ডলার। মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে এ প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক। তাঁর ভাষ্য, পণ্যের মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের শর্ত পূরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রচলিত বাজারের বাইরে রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বড় বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দেশটিতে আয় হয়েছে ২৯ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৫ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। সৌদি আরবে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। স্পেনের বাজারেও দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাজ্য। চার মাসে দেশটিতে রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ১৭৪ কোটি ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানিতে আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। এসব বড় বাজারে অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন দেশে রপ্তানি বাড়ানো গেলে নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অক্টোবর মাসেও রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই মাসে আয় ছিল ৬৭ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে দেশটির বাজারে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, শুল্কের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা হচ্ছে বলে তাঁর মত।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার বা এর প্রয়োগ এড়ানোর সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের (ইউএসটিআর) সঙ্গে বিজিএমইএর আলোচনা চলছে। সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী সংগঠনটি।

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য, উৎপাদন সক্ষমতা, গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ইপিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফের প্রত্যাশা, বড় বাজারে প্রবৃদ্ধি এবং নতুন গন্তব্যে রপ্তানি বাড়ার ধারাবাহিকতা আগামী মাসগুলোতেও বজায় থাকবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয় যুক্তরাষ্ট্রের বাজার

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!