যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

৫৩ বছর পর চাঁদের পথে সফল যাত্রা: আর্টেমিস-২ মহাকাশ মিশন উৎক্ষেপণ সম্পন্ন

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৪ PM

৮৭
৫৩ বছর পর চাঁদের পথে সফল যাত্রা: আর্টেমিস-২ মহাকাশ মিশন উৎক্ষেপণ সম্পন্ন

সফলভাবে উৎক্ষেপণ হয়েছে আর্টেমিস-২। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে historic আর্টেমিস-২ মিশন উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৫৩ বছর পর মানুষ চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণের পথে, নাসা নভোচারীদের নিয়ে এগোচ্ছে মহাকাশ অভিযানে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আর্টেমিস-২ মহাকাশ মিশন সফলভাবে উৎক্ষেপণ হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে চার নভোচারী চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করছেন, যা গত ৫৩ বছরের মধ্যে মানুষের প্রথম নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথ ছাড়িয়ে মহাকাশে পাড়ি জমানোর নজির।

স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) এবং বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মিশনটি শুরু হয়। এটি নাসার মানুষের জন্য চাঁদে ফেরার এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলে অভিযান পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

মিশনের গুরুত্ব
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এটি প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের পথে পাড়ি জমাচ্ছেন। ৩২ তলা উচ্চতার রকেটটি ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণ দেখতে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন।

নভোচারীরা
আর্টেমিস-২ মিশনের চার সদস্য হলেন—

  • নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান,
  • ভিক্টর গ্লোভার,
  • ক্রিস্টিনা কচ,
  • কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন

তারা চাঁদের চারপাশে প্রায় ১০ দিনের অভিযানে রয়েছেন। এই অভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযানের প্রতিটি সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন এবং মঙ্গল অভিযানের পথ সহজ করবে।

উৎক্ষেপণের আগে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি
উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে রকেটে হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরা শুরু হয়। চলতি বছরের শুরুতে একটি পরীক্ষা চলাকালীন হাইড্রোজেন লিক ধরা পড়ায় উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায়। তবে এবার কোন সমস্যা হয়নি। লঞ্চ টিম ৭ লাখ গ্যালন (২৬ লাখ লিটার) জ্বালানি সফলভাবে লোড করেছেন।

নাসাকে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে—যেমন রকেটের ‘ফ্লাইট-টার্মিনেশন সিস্টেম’-এর সিগন্যাল সমস্যা এবং ওরিয়ন ক্যাপসুলের ব্যাটারির তাপমাত্রা—but এগুলো সমাধান করা হয়েছে এবং উৎক্ষেপণে কোনো বিলম্ব ঘটায়নি।

পরবর্তী ধাপ
নভোচারীরা প্রথম এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চকক্ষপথে অবস্থান করবেন। ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা, নেভিগেশন এবং জ্বালানি সিস্টেম পরীক্ষা হবে। এরপর ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’ মাধ্যমে মহাকাশযান চাঁদের দিকে পাঠানো হবে।

চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে, ওরিয়ন একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্র্যাজেক্টরি’ ধরে ফিরে আসবে। এটি এমন পথ যা চাঁদ ও পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ব্যবহার করে প্রাকৃতিকভাবে মহাকাশযানকে পুনরায় পৃথিবীর দিকে ঘুরিয়ে আনে। ফিরে আসার সময় ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০,২৩৩ কিমি বেগে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।

নাসার বিজ্ঞান মিশন চিফ নিকি ফক্স বলেছেন, “আর্টেমিস-২ নতুন প্রজন্মের জন্য চন্দ্রাভিযান। অনেকের জন্য এটি প্রথম অ্যাপোলো অভিজ্ঞতার সমতুল্য।”

আর্টেমিস-২ চাঁদ অভিযান নাসা মহাকাশ মিশন

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!