রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবিঃ সংগৃহীত
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল জ্বালানি ইউরেনিয়াম, যা বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প Rooppur Nuclear Power Plant-এ জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিক খনিজ, যা মাটির নিচ থেকে উত্তোলন করে বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর এটি ছোট দানার মতো প্যালেট আকারে তৈরি করা হয়। এসব প্যালেট ধাতব নলের ভেতরে সাজিয়ে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড, আর একাধিক রড একত্রে গঠন করে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি, যা রিঅ্যাক্টরের মূল অংশে স্থাপন করা হয়।
পারমাণবিক জ্বালানিতে ব্যবহৃত হয় ইউরেনিয়ামের বিশেষ আইসোটোপ Uranium-235। রিঅ্যাক্টরের ভেতরে নিউট্রনের আঘাতে এই ইউ-২৩৫ পরমাণু বিভাজিত (ফিশন) হয়। এর ফলে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন হয় এবং আরও নিউট্রন তৈরি হয়, যা আবার অন্য পরমাণুকে বিভাজিত করে। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বলা হয় Nuclear fission chain reaction।
উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানি গরম করে বাষ্প তৈরি করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এভাবেই ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়।
সাধারণত একটি রিঅ্যাক্টরে ১৫০ থেকে ২৫০টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি থাকে এবং প্রতি ১৮ থেকে ২৪ মাস পর আংশিকভাবে পুরোনো জ্বালানি পরিবর্তন করা হয়। ব্যবহৃত জ্বালানিকে ‘স্পেন্ট ফুয়েল’ বলা হয়, যা অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় হওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে সংরক্ষণ করতে হয়।
উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্প ইতোমধ্যে কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বিদ্যুৎ রূপপুর প্রকল্প
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!