ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল মহাকাশবিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের গবেষণায় পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত টিওআই-২১৫৫ নামের একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা রহস্যময় বস্তু টিওআই-২১৫৫বি শনাক্ত হয়েছে, যা নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যকার প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, টিওআই-২১৫৫বির ভর বৃহস্পতির প্রায় ৮০.৬ গুণ। এই ভর এমন এক সীমায় অবস্থান করছে, যেখানে একটি বস্তু নক্ষত্রে পরিণত হবে নাকি ব্রাউন ডোয়ার্ফ হিসেবেই থেকে যাবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। ফলে বস্তুটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, টিওআই-২১৫৫বির ব্যাসার্ধ প্রায় বৃহস্পতির সমান হলেও এর ঘনত্ব অনেক বেশি। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য নক্ষত্রের জন্ম ও বিবর্তন সম্পর্কে বিদ্যমান তত্ত্ব যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই গবেষণায় নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (TESS) মিশনের তথ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থলভিত্তিক মানমন্দিরের পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ ও রেডিয়াল ভেলোসিটি পরিমাপের মাধ্যমে গবেষক দল বস্তুটির ভর ও বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করেন।
মো. রেদোয়ান আহমেদ জানান, ব্রাউন ডোয়ার্ফ হলো এমন মহাজাগতিক বস্তু, যার ভর নক্ষত্র হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই এর কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হয় না। তবে টিওআই-২১৫৫বি ঠিক সেই সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে, যেখানে একটি বস্তু নক্ষত্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে শুধু ভরের ভিত্তিতে নক্ষত্র বা ব্রাউন ডোয়ার্ফ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এর বয়স, রাসায়নিক গঠন এবং বায়ুমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই নতুন আবিষ্কার নক্ষত্র গঠনের প্রচলিত ধারণাকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সহায়তা করবে।
বর্তমানে মো. রেদোয়ান আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডনি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমিতে পিএইচডি গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র এক্সোপ্ল্যানেট, ব্রাউন ডোয়ার্ফ, নাক্ষত্রিক কার্যকলাপ এবং রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে টিওআই-২১৫৫বির মতো আরও বিরল মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়া গেলে নক্ষত্রের জন্ম, বিবর্তন এবং ব্রাউন ডোয়ার্ফ সম্পর্কে আরও নির্ভুল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হবে।
মহাকাশ জ্যোতির্বিজ্ঞান
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!