যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌরজগতের বাইরে প্রথম এক্সোমুনের সন্ধান, নতুন গবেষণায় আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ PM

সৌরজগতের বাইরে প্রথম এক্সোমুনের সন্ধান, নতুন গবেষণায় আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত

সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কারের তিন দশকেরও বেশি সময় পর বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য প্রথম এক্সোমুন বা বহির্জাগতিক উপগ্রহের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন। এই আবিষ্কার নিশ্চিত হলে মহাকাশ গবেষণায় এটি একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, চিলির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৩ আলোকবর্ষ দূরের সিডি-৩৫ ২৭২২ স্টার সিস্টেম পর্যবেক্ষণের সময় একটি রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান মিলেছে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ওই নক্ষত্রটির ভর সূর্যের প্রায় অর্ধেক। এই নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে একটি ব্রাউন ডার্ফ বা বাদামি বামন, যা নক্ষত্র ও গ্রহের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্যের একটি জ্যোতির্বস্তু। পর্যাপ্ত ভর না থাকায় এটি প্রকৃত নক্ষত্রের মতো হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু করতে পারে না।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, নতুন শনাক্ত হওয়া বস্তুটি সরাসরি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে না; বরং এটি ওই ব্রাউন ডার্ফকে প্রদক্ষিণ করছে। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এটি সৌরজগতের বাইরের প্রথম পরিচিত উপগ্রহ বা এক্সোমুন হতে পারে।

গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানী কেভিন হয় জানান, প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী এটিকে গ্রহ নাকি উপগ্রহ বলা হবে, তা নির্ধারণ করা সহজ নয়। কারণ, এর আকার ও ভর একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রহের মতো হলেও এটি সরাসরি কোনো নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে না।

অন্যদিকে গবেষক অ্যালিস জুরলো বলেন, আমাদের সৌরজগতের ক্ষেত্রে নক্ষত্র, গ্রহ ও উপগ্রহের পার্থক্য স্পষ্ট হলেও দূরবর্তী এই সিস্টেমে সেই সীমারেখা অনেকটাই অস্পষ্ট। তাই আপাতত এটিকে এক্সোমুনের পরিবর্তে এক্সোস্যাটেলাইট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ৬ হাজারেরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত করেছেন। তবে এতদিন পর্যন্ত কোনো গ্রহের নিশ্চিত উপগ্রহের অস্তিত্ব প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণ, শত শত আলোকবর্ষ দূরের তুলনামূলক ছোট ও ক্ষীণ মহাজাগতিক বস্তুকে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন।

গবেষকদের আশা, চিলিতে নির্মাণাধীন এক্সট্রিমলি লার্জ টেলিস্কোপ চালু হলে আরও উন্নত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এক্সোমুন এবং এ ধরনের রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর প্রকৃতি আরও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে।

এক্সোমুন মহাকাশ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!