জার্মানি ও কুরাসাওর মধ্যকার ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত এক আক্রমণাত্মক প্রদর্শনী উপহার দিয়েছে জার্মানি। কুরাসাওর বিপক্ষে একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে ৭-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে অবিরাম চাপ সৃষ্টি করে জার্মান ফুটবলাররা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে খেলতে থাকে জার্মানি। দ্রুত বল দখল, ধারাবাহিক পাসিং এবং উইং দিয়ে আক্রমণের মাধ্যমে কুরাসাওর রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। প্রথমার্ধেই একাধিক গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানরা, যা ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
তবে ম্যাচের এক পর্যায়ে কুরাসাও একটি গোল শোধ করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। সেই সময় জার্মান শিবিরে সামান্য চাপ তৈরি হলেও খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে তারা। এরপর আরও ধারালো আক্রমণ চালিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে কার্যত ভেঙে ফেলে জার্মান দল।
ম্যাচের শেষ দিকে জার্মানির হয়ে সপ্তম গোলটি করেন তারকা ফরোয়ার্ড কাই হ্যাভার্টজ। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ডেনিজ উন্ডাভ অসাধারণ একটি পাস বাড়িয়ে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে পাঠান হ্যাভার্টজ। তার এই গোল জার্মান সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।
ডেনিজ উন্ডাভ ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। মাঠে নামার পর একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। তার উপস্থিতি জার্মান আক্রমণভাগকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তোলে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একাধিক আক্রমণ সাজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড।
পুরো ম্যাচজুড়ে জার্মানির আক্রমণাত্মক ফুটবল ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল সরবরাহ, আক্রমণভাগের কার্যকর সমন্বয় এবং গোলের সামনে নিখুঁত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে কুরাসাও চেষ্টা করেও জার্মানদের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।
এই বড় জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে জার্মানির আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেল। একই সঙ্গে শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে দলটি। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে জার্মানদের বিপক্ষে যেকোনো দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
৭-১ গোলের এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানির আক্রমণাত্মক শক্তি ও শিরোপা জয়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষারও জোরালো বার্তা দিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!