যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

কুরাসাওকে ৭–১ গোলে উড়িয়ে ব্রাজিলের ‘সেভেন আপ’ স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:২০ PM

কুরাসাওকে ৭–১ গোলে উড়িয়ে ব্রাজিলের ‘সেভেন আপ’ স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি

গোলের পর জার্মান খেলোয়াড়দের উল্লাস। ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আবারও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক দেখাল জার্মানি। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে ৭–১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচজুড়ে ধারাবাহিক আক্রমণ, দ্রুত পাসিং এবং কার্যকর ফিনিশিংয়ে প্রতিপক্ষকে কার্যত দিশেহারা করে ফেলে তারা।

প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জার্মানি। বিরতির পর আরও আগ্রাসী ফুটবল খেলতে থাকে ইউরোপের এই শক্তিশালী দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগে চাপ বাড়তে থাকে।

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। তার গোলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় জার্মানি। এরপর ৬৮ মিনিটে লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন আক্রমণে উঠে এসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে পঞ্চম গোল এনে দেন।

৬–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও থেমে থাকেনি জার্মানির গোল উৎসব। ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ডেনিজ উন্ডাভ গোল করে ব্যবধান ৬–১ করেন। ম্যাচে তিনি একটি গোল করার পাশাপাশি একাধিক অ্যাসিস্ট করে আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ম্যাচের শেষ দিকে আবারও আলোচনায় আসেন কাই হাভার্টজ। ৮৮তম মিনিটে জার্মানির সপ্তম গোলটি করেন তিনি। এর আগে তিনি আরও একটি গোল করেন এবং দলের আক্রমণাত্মক খেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

এই বড় জয়ের মাধ্যমে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি আবারও সামনে চলে আসে, যখন জার্মানি ব্রাজিলকে ৭–১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল। কুরাসাওয়ের বিপক্ষেও একই স্কোরলাইন ফুটবল বিশ্বে সেই ‘সেভেন আপ’ ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দেয়।

পুরো ম্যাচে জার্মানির আক্রমণভাগ ছিল অত্যন্ত ধারালো এবং সংগঠিত। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত বল আদান-প্রদান এবং উইং দিয়ে আক্রমণের ফলে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়ে। প্রতিপক্ষ কেবল একটি গোল করতে সক্ষম হলেও জার্মানির চাপ সামাল দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।

এই জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করল জার্মানি। একই সঙ্গে শিরোপা জয়ের দৌড়ে নিজেদের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে আবারও বার্তা দিল দলটি। ধারাবাহিক এমন পারফরম্যান্স বজায় থাকলে টুর্নামেন্টে জার্মানির পথ আরও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!