যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৭ জুন ২০২৬,২ আষাঢ় ১৪৩৩

সেভেন আপের দুঃসহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি, ১২ বছর পর আবারও ৭ গোলের জয়ে জার্মানি

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ PM

সেভেন আপের দুঃসহ স্মৃতির পুনরাবৃত্তি, ১২ বছর পর আবারও ৭ গোলের জয়ে জার্মানি

কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে জার্মানি। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং স্মরণীয় মুহূর্তের সমাহার। আর জার্মানির নাম উঠলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক সেমিফাইনালের কথা, যেখানে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানরা। দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও একই ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেই স্মৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কুরাসাও শুরু থেকেই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে প্রথমবারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে জায়গা করে নেয়। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবেও তারা নতুন রেকর্ড গড়ে। তবে স্বপ্নের মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিধর দল জার্মানি, ফলে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে তা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানি আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ষষ্ঠ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের চমৎকার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স নেমেচা। তবে ভয় না পেয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠে কুরাসাও। ২১ মিনিটে জেরেমি লোকাদিয়ার শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে কোমেনেনসিয়ার নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় কুরাসাও এবং ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায়। কিন্তু সমতায় ফেরার পরই জার্মানি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ৩৮ মিনিটে যশুয়া কিমিচের কর্নার থেকে হেডে গোল করে জার্মানিকে আবারও এগিয়ে দেন নিকো শ্লটারবেক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ। বিরতির পর জার্মানদের আক্রমণের গতি আরও বাড়ে। ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা, ৬৮ মিনিটে নাথান ব্রাউন এবং ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ গোল করে ব্যবধান বাড়ান। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি পৌঁছে যান কাই হাভার্টজ এবং স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭-১। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে বিশাল জয় নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে জার্মানি। পরিসংখ্যানেও ছিল তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য। ম্যাচে ৬৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখার পাশাপাশি ২৬টি শট নেয় জার্মানি, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে কুরাসাও মাত্র ৬টি শট নিতে সক্ষম হয় এবং লক্ষ্যে রাখতে পারে দুটি। যদিও বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে, তারপরও কুরাসাওয়ের ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে দিনের শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জার্মানির সাত গোলের জয়, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে আবারও ফিরিয়ে এনেছে ব্রাজিলের সেই দুঃস্বপ্নের ‘সেভেন আপ’ স্মৃতি। ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি ৭-১ জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাসের সূচনা করল জার্মানি এবং শিরোপা জয়ের মিশনে শক্ত বার্তাও ছুড়ে দিল প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!