নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত লড়াই করে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দিল জাপান। দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছেড়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২-২ গোলের মূল্যবান ড্র আদায় করেছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচে জয় প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে ফেলেছিল ডাচরা, কিন্তু শেষ দিকে জাপানের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় উভয় দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরই ম্যাচে আসে গতি এবং একের পর এক গোলের দেখা পান দর্শকরা। ৫১ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডের মাধ্যমে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। তার এই গোল ডাচ শিবিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিলেও বেশিক্ষণ সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি।
প্রথম গোল হজম করার পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে জাপান। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পুরস্কারও পেয়ে যায় তারা। ৫৮ মিনিটে কেইতো নাকামুরা গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনেন এবং ম্যাচে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। সমতায় ফেরার পর দুই দলই জয়ের লক্ষ্যে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়।
৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে ক্রিসেনসিও সামারভিল জালের ঠিকানা খুঁজে পেলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-১। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন অনেকটাই ডাচদের হাতে চলে যায় এবং মনে হচ্ছিল তারা গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়বে।
কিন্তু জাপান আবারও দেখিয়ে দেয় কেন তাদের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম লড়াকু দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গোল শোধের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফল আসে। দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে জাপানকে আবারও সমতায় ফেরান দাইচি কামাদা। তার গোলেই ২-২ সমতায় ফিরে আসে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
শেষ কয়েক মিনিটে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। এই ড্রয়ের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয় জাপান, অন্যদিকে নিশ্চিত জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে ডাচরা।
ম্যাচের ফলাফল আবারও প্রমাণ করেছে যে জাপান কখনো সহজে হার মানে না। শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, দলগত সমন্বয় এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা তাদের বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসকে হতাশ হতে হয়েছে, কারণ দুইবার এগিয়ে থেকেও তারা লিড ধরে রাখতে পারেনি।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এই ড্র দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মানসিক দিক থেকে জাপানই বেশি আত্মবিশ্বাস পাবে, কারণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে থেকেও তারা ম্যাচে ফিরে এসে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করেছে। এমন পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতেও জাপানকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!