যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

সাধারণ পোশাকের চাহিদায় রপ্তানি আয় বাড়ল ৬.১০%

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩২ PM ২৯
সাধারণ পোশাকের চাহিদায় রপ্তানি আয় বাড়ল ৬.১০%

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রেখেছে বটমওয়্যার, সোয়েটার ও টি-শার্ট। ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি মার্কিন ডলারে। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৯৯৭ কোটি ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) সংকলিত পরিসংখ্যানে এ চিত্র উঠে এসেছে।

রপ্তানি আয়ের এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে তিন ধরনের প্রচলিত পোশাক—বটমওয়্যার, সোয়েটার ও কার্ডিগান এবং টি-শার্ট ও ভেস্ট। এসব পণ্য থেকে সম্মিলিতভাবে অতিরিক্ত ৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে বটমওয়্যার থেকে আয় বেড়েছে ২০ কোটি ১০ লাখ ডলার, সোয়েটার ও কার্ডিগান থেকে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং টি-শার্ট ও ভেস্ট থেকে ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিশুদের পোশাকে; এ শ্রেণিতে আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে সাধারণ বা মৌলিক পণ্যের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৮২৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে মৌলিক পণ্যের অংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ০৬ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৭৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

অন্যদিকে শার্ট ও ব্লাউজ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে মোট পোশাক রপ্তানিতে এ দুই ধরনের পণ্যের অংশ কমে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ, আয় বাড়লেও সামগ্রিক রপ্তানিতে শার্ট ও ব্লাউজের আপেক্ষিক অবদান কমেছে।

উচ্চমূল্য সংযোজনকারী ও আধুনিক নকশার পোশাকের ক্ষেত্রে চিত্রটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ ধরনের পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪২ শতাংশ; মোট আয় হয়েছে ১৪৮ কোটি ডলার। এ সময় নারীদের ড্রেস রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাকটিভওয়্যারে কমেছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং স্যুট ও এনসেম্বলসের রপ্তানি কমেছে ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এর প্রভাবে মোট পোশাক রপ্তানিতে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্যের অংশ ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক রপ্তানি আয় বাড়লেও প্রবৃদ্ধির বড় অংশ আসছে তুলনামূলক কম দামের সাধারণ পোশাক থেকে। দীর্ঘ মেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বেশি মূল্য সংযোজন হয়—এমন পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় পোশাকের রপ্তানি বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের আয় ও বাজারভিত্তি আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তৈরি পোশাক রপ্তানি পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বটমওয়্যার

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!