যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তির ফল নিয়ে অসন্তোষ, ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:২০ PM

২৫
রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তির ফল নিয়ে অসন্তোষ, ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশে অসংগতির অভিযোগ তুলে রাজশাহীতে পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধিত ফল প্রকাশের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ১১টি বিদ্যালয়ের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ হয়নি। শুধু তাই নয়, ওই কেন্দ্রের কোনো শিক্ষার্থীর নামই বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই। বিষয়টিকে তারা ফল প্রস্তুতির বড় ধরনের ত্রুটি হিসেবে দেখছেন।

মানববন্ধনে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ড. আজিবর রহমান বলেন, প্রকাশিত ফলাফলে বিভিন্ন অসংগতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও কমছে।

তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই ফল তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলেন, তিনি ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন এবং উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হলে বৃত্তি পাওয়ার আশা করছেন। তাই খাতা পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।

কর্মসূচি থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফলাফলের অভিযোগ তদন্ত, প্রয়োজন হলে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধিত ফল প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, তাদের কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর একজন শিক্ষার্থীর নামও তালিকায় না থাকায় বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফল ভালো হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়া স্বাভাবিক নয়, তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় নিবন্ধিত ১৩ হাজার ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন জানান, অভিভাবকদের লিখিত আবেদনগুলো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হওয়ায় কারিগরি ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাথমিক বৃত্তি শিক্ষার্থী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!