যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

নওগাঁর আলতাদিঘি শালবনে ১১ ফুট উঁচু উইঢিবি, প্রকৃতির বিস্ময়ে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ PM

২৫
নওগাঁর আলতাদিঘি শালবনে ১১ ফুট উঁচু উইঢিবি, প্রকৃতির বিস্ময়ে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ঐতিহাসিক আলতাদিঘি শালবন এখন শুধু সবুজ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নয়, বিশালাকার উইঢিবির কারণেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো ২৬৪ হেক্টরের এই শালবনে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৩৫টি উইঢিবি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির উচ্চতা প্রায় ১১ ফুট। প্রথম দেখায় এগুলো মানুষের তৈরি কোনো স্থাপনা মনে হলেও, আসলে লাখ লাখ উইপোকার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এসব প্রাকৃতিক স্থাপত্য।

শালবনের ভেতর আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগোতেই চোখে পড়ে মাটির তৈরি বিশাল এসব ঢিবি। কোনো কোনোটির উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট, আবার সবচেয়ে বড় ঢিবিটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১১ ফুট উচ্চতায়। দূর থেকে দেখতে এগুলো অনেকটা প্রাচীন দুর্গ বা ছোট পিরামিডের মতো মনে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে উইপোকারা মৃত গাছের গোড়াকে কেন্দ্র করে এসব বাসা তৈরি করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ঢিবির আকার বেড়েছে। সবচেয়ে বড় উইঢিবিটি বর্তমানে শালবনের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

দর্শনার্থী মিঠু হাসান বলেন, বাসাবাড়ির আশপাশে ছোট উইঢিবি দেখা গেলেও এত বড় আকারের উইঢিবি আগে কখনো দেখেননি। প্রথমে এটি মানুষের তৈরি বলে মনে হলেও পরে জানতে পারেন, এটি সম্পূর্ণ উইপোকার সৃষ্টি।

ধামইরহাট বন বিট কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আলতাদিঘি শালবনে ঘুরতে আসেন। তাদের কাছে উইঢিবিগুলো অন্যতম আকর্ষণ। এগুলোর সুরক্ষায় বন বিভাগ নিয়মিত নজরদারি করছে।

তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় উইঢিবিটি তৈরিতে প্রায় ১২ লাখ উইপোকা কাজ করেছে বলে ধারণা করা হয়। শালবনের পরিবেশ উইপোকার বসবাসের জন্য উপযোগী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এখানে তাদের আবাস গড়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উইঢিবি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন নয়, বরং বনজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উইপোকারা মাটি, লালা ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করে অত্যন্ত শক্ত ও জটিল কাঠামোর বাসা তৈরি করে।

নওগাঁ সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওয়াহেদ আলী জানান, উইপোকার তৈরি ঢিবির ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র পথ ও কক্ষ থাকে, যেখানে তারা খাদ্য সংগ্রহ ও বসবাস করে। আলতাদিঘি শালবনের আর্দ্রতা, খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ তাদের দীর্ঘস্থায়ী আবাস তৈরিতে সহায়ক হয়েছে।

প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টি সংরক্ষণে দর্শনার্থীদের সচেতনতা এবং বন বিভাগের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নওগাঁ আলতাদিঘি শালবন

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!