ছবি: সংগৃহীত
বর্ষার শুরুতেই দেশের শালবনগুলোতে ফিরে আসে এক বিশেষ অতিথি পাখি—দেশি শুমচা। মিষ্টি ও সুরেলা ডাকের জন্য পরিচিত এই পাখি বর্ষাকালে বনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।
গাজীপুরের ভাওয়াল শালবনসহ দেশের বিভিন্ন শালবনে প্রতিবছর দেখা যায় এই পরিযায়ী পাখি। ইংরেজিতে যাকে ‘ইন্ডিয়ান পিটা’ বলা হয়, সেই দেশি শুমচা সাধারণত বর্ষার সময় বাংলাদেশে আসে এবং কয়েক মাস অবস্থান করে।
ভোরের নীরব শালবনে হঠাৎ শোনা যায় শুমচার আকর্ষণীয় ডাক। পাখিটির এই সুরেলা আওয়াজ মূলত সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য। মানুষের উপস্থিতি অনেক সময় টের পেলেও নিজের স্বাভাবিক আচরণে ব্যস্ত থাকে এই পাখি।
বর্ষাকালে শালবনের মাটিতে জমে থাকা পচা পাতার স্তর দেশি শুমচার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব পাতা পচে তৈরি হয় নানা ধরনের পোকামাকড়ের আবাস, যা এই পোকাখেকো পাখির প্রধান খাদ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশি শুমচার খাদ্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে কেঁচো। বর্ষার আর্দ্র পরিবেশে মাটিতে কেঁচো ও অন্যান্য পোকামাকড়ের সংখ্যা বাড়ে, যা পাখিটির জন্য উপযুক্ত খাদ্য সরবরাহ করে।
মধ্য এপ্রিল থেকে দেশি শুমচা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। বর্ষাকালেই এদের প্রজননের সময়। ডিম দেওয়া, বাচ্চা ফোটানো ও বড় করার কাজ শেষ করে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তারা আবার অন্য অঞ্চলে ফিরে যায়।
দক্ষিণ এশিয়ায় কয়েক ধরনের শুমচা দেখা গেলেও বাংলাদেশে পাঁচ ধরনের শুমচার উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে দেশি শুমচা স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে আসে।
তবে শালবনের পরিবেশ টিকে থাকলেও কমে যাচ্ছে বনের প্রাকৃতিক পোকামাকড়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছের ঝরা পাতা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বনজ পরিবেশের ক্ষতি করছে। এতে মাটির উর্বরতা কমছে এবং পোকাখেকো পাখির খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে।
দেশি শুমচা শুধু একটি পাখি নয়, এটি শালবনের সুস্থ পরিবেশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা জরুরি।
দেশি শুমচা জীববৈচিত্র্য বাংলাদেশ প্রকৃতি
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!