যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় বদলে গেছে সুন্দরবনের পরিবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ PM ৬৫
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় বদলে গেছে সুন্দরবনের পরিবেশ

ছবি: সংগৃহীত

টানা তিন মাস মানুষের প্রবেশ সীমিত থাকায় সুন্দরবনে বন্যপ্রাণীর বিচরণ বেড়েছে এবং বনজ সম্পদের ওপর চাপ কমেছে। একই সময়ে বন অপরাধের বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে আবার সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ মিলছে।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন এবং স্বাভাবিক বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিবছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ ও মধু সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। চলতি বছরও এই সময়ে মানুষের আনাগোনা কম থাকায় বনের স্বাভাবিক পরিবেশে তুলনামূলক প্রশান্তি ফিরে আসে।

বন বিভাগের তথ্য বলছে, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে সুন্দরবনে ৬৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বন অপরাধের ঘটনায় ৩৯টি মামলা হয়েছে এবং ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিযানে ১২টি ট্রলার, ৫০টি নৌকা, ৫৫টি মাছ ধরার জাল, ২৮ বোতল ও দুই লিটার তরল বিষ এবং ৬ হাজার ২৯০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ১৮৬ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ৭৩৬ কেজি কাঁকড়া, ১ হাজার ৫৬২টি চারু, ২ হাজার বড়শি, ১৭০ কেজি মধু এবং দুই বস্তায় থাকা ৫ কেজি শুঁটকি মাছ। বন বিভাগের দাবি, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের নিষেধাজ্ঞাকালে বন অপরাধ কমেছে।

বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজননের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

তাঁর মতে, মানুষের প্রবেশ, পর্যটন ও কৃত্রিম শব্দদূষণ কম থাকায় বনের গভীর অংশে উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরেছে। বন বিভাগ বিশেষ অভিযান ও স্মার্ট প্যাট্রলিংয়ের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করছে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন শুধু বাঘ ও হরিণের আবাসস্থল নয়; বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, পাখি, সরীসৃপ, উভচর ও জলজ প্রাণীরও আবাস। বনের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় মানুষের চাপ কম রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষের কার্যক্রম কম থাকায় কেওড়া, সুন্দরী ও বাইনসহ বিভিন্ন গাছের চারাগুলোও তুলনামূলক বাধাহীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে বলে জানান তিনি।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনে ফিরছেন জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকরা। বন বিভাগ জানিয়েছে, বৈধভাবে পাস-পারমিট দেওয়া, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ রাখার বর্তমান সময়সীমা কয়েক ধাপে পরিবর্তিত হয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রবেশ বন্ধ ছিল। পরে ২০২২ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞার সময় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট করা হয়।

এ সময়ে কর্মহীন জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে উৎসে উল্লেখ করা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!