যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

হাম-রুবেলা ও ডেঙ্গু ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৫ PM ৬৪
হাম-রুবেলা ও ডেঙ্গু ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন; ছবি: সংগৃহীত

হাম ও ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে আরও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার দেশব্যাপী ‘বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে রাষ্ট্রকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী চার বছর পরপর দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

টিকার ঘাটতির কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শ উপেক্ষা করে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এ সময়ের ঘাটতির কারণে সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়ে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এপ্রিলের শুরু থেকে ধাপে ধাপে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০ এপ্রিলের আগেই দেশজুড়ে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়।

হামে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক জটিলতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, পুষ্টিহীনতার কারণে আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর শ্বাসকষ্টে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআর,বির চিকিৎসক চিশতির উদ্ভাবিত প্রায় ১৫০ টাকা ব্যয়ের বোতলভিত্তিক কৃত্রিম সিপ্যাপ পদ্ধতি অনেক শিশুর চিকিৎসায় সহায়ক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসংকটে চিকিৎসকেরা আন্তরিকতা ও ত্যাগের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি পূরণে নতুন করে বিশেষ ক্যাম্পেইনের কথাও জানান তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, আগের হাম টিকাদান কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু বাদ পড়েছিল। পরবর্তী বিশেষ উদ্যোগে আরও ১৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পর এবার ঝুঁকি কমাতে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৪ লাখ শিশুকে নতুন ক্যাচআপ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এই ৩৪ লাখ শিশুর মধ্যে গত তিন মাসে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা ১০ লাখ শিশু এবং আগের কর্মসূচিতে বাদ পড়া ২৪ লাখ শিশু রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ছুটির দিন এবং সন্ধ্যার পরও টিকাদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ইউনিসেফের জরুরি সরবরাহসহ বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে ৪৩ লাখ ডোজ টিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও ১০ লাখ ডোজ টিকা সরকারি মজুত হিসেবে রাখা হবে।

দেশব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাম

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!