যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই রাড্ডা সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা, নেই পানি-বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ PM ৬৬
ধ্বংসস্তূপের মাঝেই রাড্ডা সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা, নেই পানি-বিদ্যুৎ

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভাঙা কক্ষে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও শিশুদের টিকাদানসহ স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থাপনার একটি কক্ষ পরিষ্কার করে সোমবার সকাল থেকে সীমিত পরিসরে সেবা চালু করা হয়েছে। তবে সেখানে এখনো পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবা নিতে আসা শিশু ও তাদের স্বজনেরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই কক্ষে শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। এর আগে শনিবার ও রোববার কেন্দ্রের বাইরে সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। এখন একটি কক্ষে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ও মায়েদের বসার জন্য কক্ষটিতে কয়েকটি চেয়ার রাখা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে শিশুদের নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। কয়েকজন শিশুকে কান্না করতেও দেখা যায়। একই সময়ে কেন্দ্রের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলায় আশপাশে ধুলাবালিও তৈরি হচ্ছে।

সাড়ে চার মাস বয়সী শিশুকে টিকা দিতে আসা লাবনী বেগম বলেন, ভাঙা কক্ষেই নাতিকে নিয়ে সেবা নিতে হয়েছে। গরমে শিশুটির কষ্ট হলেও টিকা দিতে পারায় তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে কেন্দ্রটিতে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন তিনি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, ভাঙা একটি কক্ষ পরিষ্কার করে আপাতত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনার মতো অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, কেন্দ্রে এখনো পানি, বিদ্যুৎ ও শৌচকাজের ব্যবস্থা হয়নি। এখানে মূলত মা ও শিশুরা সেবা নিতে আসেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের অধিকাংশই নারী হওয়ায় তাদের জন্যও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

নাসরিন আখতার আরও জানান, কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সীমিত পরিসরে জরুরি সেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে স্থাপনা ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে। ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনের বড় অংশ ধ্বংস করা হয়।

ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। হানিফ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযানও চলছে। ২৮ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া সামগ্রীর দুই ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্তও চলছে।

মিরপুরের নিম্ন আয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। হামলার পরও শিশুদের টিকাদান চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো ছাড়া স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ফিরিয়ে আনা এখনো সম্ভব হয়নি।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!