যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬,১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাইবান্ধার ঘটনায় উসকানি ও গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে: ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ PM

৫৮
গাইবান্ধার ঘটনায় উসকানি ও গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে: ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্র ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। নেতৃত্বে পরিবর্তন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, ইসলামপন্থি দলগুলোর অবস্থান, সংখ্যালঘু ইস্যু এবং সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় চার দশকের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও মহাসচিবের দায়িত্ব বড় দায়িত্ব ও বড় চ্যালেঞ্জ। সংগঠনের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

দলের সাবেক মহাসচিবের পরিবর্তে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ সংগঠনের নীতিনির্ধারণী পরিষদের সিদ্ধান্ত। ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী কেউ নিজে থেকে পদপ্রার্থী হন না; শূরা ও প্রেসিডিয়াম যোগ্যতা বিবেচনায় দায়িত্ব নির্ধারণ করে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি জানান, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্ন নেই। তবে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করা হবে এবং অধিকাংশ জায়গায় নিজেদের সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

ইসলামপন্থি দলগুলোর বিভক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি সংগঠন যদি নিজ নিজ ঘোষিত নীতি ও আদর্শে অটল থাকত, তাহলে এ ধরনের বিভক্তি তৈরি হতো না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত নিজেদের একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়। তাই ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আদর্শগত তুলনা করা তিনি সমীচীন মনে করেন না।

গাইবান্ধার ঘটনা নিয়ে মন্তব্য

সম্প্রতি গাইবান্ধা-য় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের ছবি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় থাকা উচিত।

তার ভাষায়, গাইবান্ধার ঘটনাটিতে "উসকানিমূলক ঘটনা ও গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে।" তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন। তাই হঠাৎ করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পেছনে কারও উসকানি বা পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

হেফাজতে ইসলাম ও নারীদের ভূমিকা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসলামের পক্ষে কোনো কর্মসূচি এলে ইসলামী আন্দোলন তা সমর্থন করতে পারে, তবে সাংগঠনিকভাবে হেফাজতের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন দেখেন না।

নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলামের বিধিবিধান অনুসরণ করে নারীরা সামাজিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন। অতীতের ইসলামী ইতিহাসেও নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উদাহরণ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের কাছে প্রত্যাশা

বর্তমান সরকারের প্রতি ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা তুলে ধরে গাজী মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা উচিত। পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ইসলামপন্থি দলগুলোর বৃহত্তর ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত দল পুনর্গঠন ও জনমুখী কার্যক্রম জোরদার করাই ইসলামী আন্দোলনের প্রধান অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ঐক্যের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!