যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফোল্ডেবল আইফোনে নতুন পথে অ্যাপল, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ PM ৫১
ফোল্ডেবল আইফোনে নতুন পথে অ্যাপল, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন ‘ডুও’। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনল অ্যাপল। উচ্চমূল্যের এই ডিভাইসকে ঘিরে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনি বিক্রি ও জনপ্রিয়তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

আইফোনের নকশায় বড় পরিবর্তন এনে প্রথমবারের মতো ফোল্ডেবল মডেল উন্মোচন করেছে অ্যাপল। বুধবারের বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে কোম্পানির নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস ‘ডুও’ নামের এই আইফোনটি সামনে আনেন। টিম কুকের পর দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই নতুন এই ডিভাইস উন্মোচন করলেন তিনি।

বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় ‘ডুও’। সম্পূর্ণ খুললে এর আকৃতি অনেকটা ছোট আইপ্যাডের মতো হয়, আর ভাঁজ করলে এটি প্রশস্ত আকৃতির আইফোনে পরিণত হয়। অ্যাপলের দাবি, প্রচলিত ফোল্ডেবল ফোনগুলোর মতো না করে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যেই ডিভাইসটি তৈরি করা হয়েছে।

টার্নাস জানান, ‘ডুও’ তৈরিতে আইপ্যাড থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। এর ভাঁজ করার প্রযুক্তিকে তিনি সাবলীল ও স্বজ্ঞাত হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ফোল্ডেবল ফোন নিয়ে অ্যাপলের কাজ নতুন নয়; কয়েক বছর ধরেই প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে আসছে।

দামের দিক থেকে অবশ্য এটি অ্যাপলের জন্য বড় একটি পরীক্ষা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ‘ডুও’র প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। এর আগে নতুন আইফোনের সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য ছিল ৯০০ ডলার।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন ফোল্ডেবল আইফোন অ্যাপলের দীর্ঘদিনের উদ্ভাবন-সংক্রান্ত সমালোচনার জবাব হতে পারে। এফডিএম সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উডের মতে, টার্নাসকে প্রধান নির্বাহী করার সময়টি সম্ভবত অ্যাপলের বড় এই আইফোন উন্মোচনের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবেই মিলে গেছে। তার মন্তব্য, অ্যাপলে কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না।

তবে উচ্চমূল্যের কারণে ‘ডুও’ অ্যাপলের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জির মতে, ফোল্ডেবল আইফোন এমন একটি ব্যয়বহুল পণ্যে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়ালেও কোম্পানির ব্যবসায় প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি নাও আনতে পারে।

এই ঝুঁকির তুলনায় অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেটের উদাহরণও সামনে এসেছে। ৩ হাজার ৬৯৯ ডলার দামের ওই পণ্যটি বাজারে প্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা পায়নি। আবার অ্যাপল ওয়াচের মতোও ফোল্ডেবল আইফোন সফল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অ্যাপল ওয়াচ আইফোনের সমান জনপ্রিয় না হলেও প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ এটি কিনছেন।

এদিকে নতুন ধরনের ফোনে ব্যবহারকারীদের অভ্যস্ত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রচলিত আইফোন থেকে ফোল্ডেবল ডিভাইসে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সফটওয়্যার ও ব্যবহারের পদ্ধতি শেখার প্রয়োজন হতে পারে। ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসির মতে, ফোল্ডেবল ফোন আকর্ষণীয় হলেও প্রচলিত ফোন থেকে এ ধরনের ডিভাইসে যাওয়ার সময় সফটওয়্যার ও শেখার প্রক্রিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য কঠিন হতে পারে।

বুধবারের অনুষ্ঠানেই অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মডেল দুটির দাম শুরু হচ্ছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।

অ্যাপল ফোল্ডেবল আইফোন ডুও আইফোন

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!