যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২ আশ্বিন ১৪৩৩

নুসরাত হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৮ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৯ PM ৪৩
নুসরাত হত্যা মামলায় দুজনের ফাঁসি বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই রায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম।

আদালতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হলেও নুসরাত তা না করায় ৬ এপ্রিল তাকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর মামলাটির রায় দেন। ওই রায়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। পরে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে ১৪০/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত হয়।

আসামিদের পক্ষ থেকেও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করা হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলাটির পেপার বুক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়।

চলতি বছরের ২০ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। চার দিন পর সোমবার হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।

উৎসে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!