যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে ৪ খুন

ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১১ PM ৬১
ডোপ টেস্টে মাদক মেলেনি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য জানান।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারের জেলগেটেই নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ সময় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ইনচার্জ, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের দুইজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় এমফিটামিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হক জানান, পুলিশের চিঠির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে জেলগেটে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে দুই টেকনোলজিস্ট পুলিশ পাহারায় সেখানে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরীক্ষার পর ফলাফল সিলগালা করে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

তবে পরীক্ষার ফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক রাশেদুল হক বলেন, এমফিটামিন সাধারণত দীর্ঘ সময় প্রস্রাবে শনাক্ত থাকে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এটি প্রস্রাব থেকে আর শনাক্ত করা যায় না। দুই আসামি সাত দিনের বেশি সময় ধরে আটক থাকায় পরীক্ষায় এমফিটামিন না পাওয়াটা প্রত্যাশিত ছিল।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ছিলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে।

এ ঘটনায় একই এলাকার প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সেখানে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

সর্বশেষ ডোপ টেস্টে দুই আসামির শরীরে এমফিটামিনের উপস্থিতি না পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!