যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

তিন লাখ টাকা পাওনা চেয়ে নিখোঁজ, লালবাগে বালুর নিচে ব্যবসায়ীর মরদেহ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ PM ৬৬
তিন লাখ টাকা পাওনা চেয়ে নিখোঁজ, লালবাগে বালুর নিচে ব্যবসায়ীর মরদেহ

লালবাগের একটি বাসার নিচতলার ফাঁকা জায়গা থেকে ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম রনির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে বিসি দাস স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়ির নিচতলার একটি ফাঁকা জায়গায় বালু খুঁড়ে মরদেহটি পাওয়া যায়। তার হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন প্যাঁচানো ছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রনি যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার মেয়ে রামিসা আক্তার সোনামের ভাষ্য, চকবাজারের আসিক টাওয়ারের ইমিটেশন অলংকার ব্যবসায়ী মাসুমের সঙ্গে তার বাবার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। মাসুমের কাছে রনির তিন লাখ টাকা পাওনা ছিল।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় রনি জানিয়েছিলেন, মাসুমের কাছ থেকে পাওনা টাকার চেক আনতে যাচ্ছেন। এরপর তার সঙ্গে পরিবারের আর যোগাযোগ হয়নি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সেদিন সন্ধ্যায় রামিসা তার মাকে সঙ্গে নিয়ে লালবাগে মাসুমের বাসায় যান। সেখানে মাসুমের স্ত্রীকে পাওয়া গেলেও মাসুম ছিলেন না। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুম দাবি করেন, তিনি রনিকে পাওনা টাকার চেক দিয়ে দিয়েছেন। এরপর রনি কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও জানান।

রনিকে খুঁজে না পাওয়ায় ওই রাতেই লালবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার। পরে মাসুমের বাসার গলির একটি সিসিটিভি ফুটেজে রনিকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে গলির কিছু দূরে থাকা আরেকটি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে আর দেখা যায়নি। দুই ক্যামেরার মধ্যবর্তী স্থানেই ছিল মাসুমের বাসা। রনি সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার কোনো দৃশ্যও প্রথম ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে মাসুমের বাসার নিচতলার ফাঁকা জায়গায় বালুর নিচ থেকে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লালবাগ থানার ওসি মো. জামিল হোসেন জানান, রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় জিডি করেছিল। তদন্তের একপর্যায়ে রনির সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন থাকা মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাসার নিচতলার বালু সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি বলেন, মাসুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাসার ভেতরে রনির মাথায় ঘুষি মারা হলে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গলা টিপে শ্বাসরোধ করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে বাসার নিচতলার ফাঁকা জায়গায় বালুর নিচে পুঁতে রাখা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় মরদেহটি অনেকটাই পচে গিয়েছিল। এ ঘটনায় মাসুমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন লাখ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনার পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

লালবাগ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!