যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তাকে ধরাতে ৯৯৯-এ ফোন, ষষ্ঠ স্ত্রী পরিচয় দেওয়া নারীর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ PM ৫৪
রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তাকে ধরাতে ৯৯৯-এ ফোন, ষষ্ঠ স্ত্রী পরিচয় দেওয়া নারীর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন এক নারী। তার দাবি, ভেতরে তার স্বামী রয়েছেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নারীকে বের করে থানায় নিয়ে যায়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম। তিনি ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, মাহবুব বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকার সময় একাধিক বিয়ে করেছেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আন্নির ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি জানতে পারেন মাহবুব নাদের হাজির মোড়ের একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন এবং সেখানে আরেক নারীও রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে গিয়ে দরজায় দীর্ঘ সময় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

আন্নির দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে দরজা খুলে দেয়। এরপর মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানায় নেওয়া হয়।

মাহবুব আলম অবশ্য ওই নারীকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। তবে সাংবাদিকদের সামনে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সময়ে আন্নির তালাকের বিষয়টি নিয়ে তার দাবি, চার দিন আগে তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত একটি কাগজ পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।

আন্নি অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কোনো তালাকের কাগজ হাতে পাননি। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগের প্রক্রিয়া শুরু হলে মাহবুব আলম ও ওই নারীকে থানায় পৃথক কক্ষে রাখা হয়।

মাহবুব আলম এর আগে নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হওয়ার পর তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে তাকে ওই থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, মাহবুব আলমের রাজশিয়ায় যাওয়ার জন্য কোনো ছুটি বা অনুমতি ছিল না। তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন বলে জানান কমান্ড্যান্ট। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ সিদ্দিকী বলেন, মাহবুব আলম ও ওই নারীকে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থানায় আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!