সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় গণ অধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয় নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাদুরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের পটুয়াখালী ও গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কাওসার মৃধা, আবুবকর, শফিক, মনসুর, শাকিল, রেজাউল করিম, সামছুল আলম, শিহাব ও সুজন রয়েছেন। অপর পাঁচজনের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাদুরা বাজারে খোকন মৃধার জমির সামনে থাকা সরকারি জমিতে গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ের জন্য ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল। ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাওসার মৃধার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন সেখানে নির্মাণকাজ করছিলেন।
এ সময় পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর মৃধা, সামচু ও সোহাগসহ কয়েকজন নির্মাণকাজে বাধা দেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়।
বাবুল হাওলাদারের দাবি, ওই জায়গাটি তাদের ক্রয়কৃত জমি এবং এমদাদের নেতৃত্বে কয়েকজন সেখানে জোর করে ঘর নির্মাণ করতে গেলে তারা বাধা দেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
তবে আমখোলা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব এমদাদ হোসেনের দাবি, সরকারি জমিতে দলীয় কার্যালয় নির্মাণের সময় বাবুল হাওলাদারের লোকজন হামলা চালান। এতে তাদের ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খোকন মৃধার দাবি, তার জমির সামনে সরকারি চান্দিনা ভিটা রয়েছে এবং বাবুল হাওলাদার ওই সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
খোকন মৃধার স্ত্রী সাহিদা ইসলাম শান্তনার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের জমি ভোগদখল করতে পারছেন না। তিনি গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার অনুমতিতেই সেখানে দলীয় কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান। তার অভিযোগ, শুক্রবার সেখানে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে সরকারি জমির বিষয়ে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্য ভিন্ন। আমখোলা ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে না গিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয় এবং তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!