ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ একই পরিবারের চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে নদী থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও নৌ-পুলিশ সদস্যরা। নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন (৫৫)।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫)। শনিবার সকাল ৮টার দিকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাঁদের মরদেহ দেখতে পেয়ে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ট্রলারডুবির পর রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন, সজীব, সামিয়া ও সামিন নিখোঁজ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩ জন যাত্রী গরু ও ছাগলসহ ট্রলারে রওনা হন। বৈদ্যেরবাজারের দিকে যাওয়ার সময় মেঘনা নদীর মাঝপথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে যায়।
ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর আটজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। পরে রায়েশা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন বেগম (৪৫) ও তাঁদের আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শুক্রবার বিকেলে ডুবে যাওয়া ট্রলারটিও উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রলারে থাকা দুটি গরু ও একটি ছাগল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দুই দিন পর শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজারের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদীতে তিনজনের মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অপর নিখোঁজ ব্যক্তি হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!