যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ PM ৩২
বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। সংগৃহীত ছবি

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম এ আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সদস্যের একটি দল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরে। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও ট্রলির সংকট নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিমানবন্দরকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে লাগেজ পেতে দেরি এবং জমজমের পানি না পাওয়ার বিষয় নিয়েও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। পরে নির্বাহী পরিচালক সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তাঁর সঙ্গে আখতারুজ্জামানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় আখতারুজ্জামান হুমকিমূলক ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদ সদস্য নির্বাহী পরিচালককে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন। পরে বিমানবন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিমানবন্দরের কেপিআইভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে আখতারুজ্জামানের সঙ্গীদের অনুরোধ করেন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এ সময় তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর সঙ্গেও উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় যাত্রীদের জমজমের পানি রাখা বোতল বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বাদী পক্ষের দাবি, এসব ঘটনায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। এর পরদিন শুক্রবার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় কোনো কুচক্রী মহলের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণেই তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!