ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মায়ের রেখে যাওয়া দুই কন্যাশিশু ইসরাত ও রোজা মনির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন। পরিবারটির জীবিকা নির্বাহে সহায়তার উদ্দেশ্যে একটি গাভী উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গাভী পালন ও দুধ বিক্রির মাধ্যমে পরিবারের নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় দুই শিশুকে সড়কের পাশে রেখে চলে যান তাদের মা। স্থানীয় বাসিন্দারা রোজ গার্ডেন মডেল স্কুলের কাছে শিশু দুটিকে একা অবস্থায় দেখতে পান।
শিশু দুটির বড় বোন ইসরাতের ভাষ্য অনুযায়ী, চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাদের বাজারে নিয়ে আসেন মা। এরপর তিনি সেখান থেকে চলে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মাকে ফিরে না পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে দুই বোন।
ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা শিশু দুটির পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে শিশু দুটির চাচি ঘটনাস্থলে এসে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।
পরবর্তী সময়ে শিশু দুটির বাবা নূর মোহাম্মদ নাছির আলম তাদের নিজের হেফাজতে নেন। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু দুটি বাবার হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশু দুটির সহায়তায় এগিয়ে আসে স্থানীয় প্রশাসনও। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে গত মঙ্গলবার ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশের মাধ্যমে তাদের জন্য শিশুখাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
এবার পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার কথা বিবেচনা করে গাভী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, গাভীটি লালন-পালনের মাধ্যমে পরিবারটি দুধ বিক্রি করে আয় করতে পারবে। সেই আয় শিশু দুটির দৈনন্দিন প্রয়োজন ও লালন-পালনের ব্যয় মেটাতে সহায়ক হতে পারে।
স্বপ্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি অসহায় মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করাকে প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে তাদের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে গাভীটি কবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দুই শিশুর পরিবারের জন্য একটি নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!