যুক্তরাষ্ট্র   বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬,১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

আদালতে কলিমুল্লাহর দাবি ‘আমিই প্রথম আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ PM

আদালতে কলিমুল্লাহর দাবি ‘আমিই প্রথম আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করি’

ছবি : সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুনানির সময় তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করেননি; বরং শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর তিনিই প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। সম্প্রতি ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর মুক্তির প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন আবেদন সমর্থন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশীদ দাবি করেন, দুর্নীতির মামলায় জামিন কার্যকরের আগেই তাকে কারাগারে রাখতে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার মক্কেল অভিযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্যে কলিমুল্লাহ বলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সমালোচনা করায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দায়িত্ব পালনের সময় যা দেখেছেন, তাই প্রকাশ করেছেন।

বিচারক নির্বাচনকালীন অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কলিমুল্লাহ বলেন, পর্যবেক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ছিল। এরপর কী ঘটেছে, তা জানার সুযোগ তার ছিল না। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে অনিয়মের বিষয় তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন বলেও আদালতকে জানান।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ তার ছাত্র ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর তিনিই প্রথম এর প্রতিবাদ করেছিলেন এবং জনমত গঠনের চেষ্টা করেছিলেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে নেওয়ার সময়ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে কলিমুল্লাহ বলেন, “আবু সাঈদ আমার ছাত্র। তাকে হত্যার প্রতিবাদ প্রথম আমিই করেছি।”

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণি এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির আহত হন। অভিযোগে বলা হয়, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সশস্ত্র হামলায় তার বাম হাতের কনুইয়ে গুলি লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কলিমুল্লাহ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!