ছবি : সংগৃহীত
২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি আদালতকে জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে লতিফ সিদ্দিকীকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় পলাতক ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিকল্পনা করা হয়। পরে র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে সমাবেশকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করা হয়।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৎকালীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে এ ঘটনায় ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এবং লতিফ সিদ্দিকীকে পরিকল্পনা, উসকানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্তদের একজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে শুনানির পর ট্রাইব্যুনালে নিজের বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন লতিফ সিদ্দিকী। আদালতের অনুমতি চেয়ে তিনি কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে তিনি বলেন, আদালত যদি মনে করে, তাহলে তাকে ফাঁসি দেওয়া হোক এবং তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে তার বক্তব্য শোনার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকী ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, তার ভাইকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির আদালতে নিজের বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বয়স ৮৭ বছর। তিনি কোনো অপরাধ করেননি বলে দাবি করে বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি তারা আস্থা রাখছেন।
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!