যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ঋণের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ৬ লাখ টাকার বেশি জরিমানা, আলোচনায় সাবেক ডিসি সারওয়ার আলম

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৩৯ PM ১১৭
ঋণের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ৬ লাখ টাকার বেশি জরিমানা, আলোচনায় সাবেক ডিসি সারওয়ার আলম

সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে ঘিরে নতুন একটি তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত সুদমুক্ত গাড়ি ঋণের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকারও বেশি জরিমানা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখার নথি অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রণীত সুদমুক্ত ঋণ ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালার আওতায় গাড়ি কেনার জন্য তিনি ৩০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় বন্ধকী নথিতে স্বাক্ষর না করায় তার বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর মো. সারওয়ার আলমের অনুকূলে গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা অগ্রিম মঞ্জুর করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ গ্রহণের পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ‘গ’ ফরম বা বন্ধকী ফরমে স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক।

কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তিনি ওই ফরমে স্বাক্ষর করেননি। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তিনি চলতি বছরের ২২ এপ্রিল বন্ধকী ফরমে স্বাক্ষর করেন।

নীতিমালার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরমে স্বাক্ষর না করলে গৃহীত ঋণের ওপর ১৫ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপের সুযোগ রয়েছে। সেই হিসাবে ৩০ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে ৫০৭ দিনের জন্য মোট ৬ লাখ ২৫ হাজার ৬৮ টাকা ৪৯ পয়সা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাড়ি সেবা শাখা থেকে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল একটি চিঠি জারি করা হয়। উপসচিব মঈন উদ্দিন ইকবাল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্ধারিত কোড নম্বরের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জরিমানার অর্থ জমা দিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

তবে ওই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বর্তমান জেলা প্রশাসন সূত্রে জানতে চাওয়া হলে কোনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভিন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে আলোচনায় ছিলেন মো. সারওয়ার আলম। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ঋণের শর্ত ভঙ্গজনিত জরিমানার তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং পুরো বিষয়টির প্রশাসনিক অগ্রগতি কী অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!