ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর চার প্রবাসীকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।
নিহত চারজন হলেন রুবেল প্রামাণিক, দুই ভাই মোহন আলী ও সুমন আলী এবং কলিমুদ্দিন। তারা সবাই সৌদি আরবের একই সোফা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন।
শুক্রবার বিকেলে গণ্ডগোহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চারজনের সম্মিলিত জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের কবরস্থানে মোহন আলী ও সুমন আলীকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। রুবেল প্রামাণিক ও কলিমুদ্দিনকে তাদের পাশের অংশে দাফন করা হয়েছে।
দাফনে নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। একই গ্রামের চারজনের মরদেহ একই দিনে দাফন হওয়ায় গণ্ডগোহালীতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, জীবনে একই সঙ্গে এতগুলো মরদেহ দাফনের ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। একই গ্রামের চারজনের এমন মৃত্যু তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বলেও জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। নিহতদের পরিবারগুলো আপনজন হারিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নওগাঁর নিহতদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে পরিবারের সদস্যরা সেগুলো নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে নিয়ে যান।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাদের মধ্যে নয়জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছায়। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজন ওই নয়জনের মধ্যে ছিলেন।
নওগাঁর নিহত সাতজনের মধ্যে গণ্ডগোহালীর চারজন ছাড়াও উদনপৈ গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরদার রয়েছেন।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!