বয়সসীমা সংস্কার আন্দোলনের নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকার রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংগঠনটির বিক্ষোভ কর্মসূচি। ছবি : সবুজ নিশান
বয়সসীমা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব এম. আলম মুরাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। অভিযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এম. আলম মুরাদের ওপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বয়সসীমা সংস্কার আন্দোলন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ১১ নম্বর চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম এলাকায় মুরাদের ওপর হামলা হয়। তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাম হাতে কোপ এবং রড দিয়ে আঘাত করে ডান পা হাঁটুর নিচে ভেঙে দেওয়া হয়।
হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মুরাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, মুরাদের পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের দখল নিয়ে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা দাবি করেছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো যাচাই এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
হামলার ঘটনায় মুরাদের বাবা বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেছেন বলে কর্মসূচিতে জানানো হয়। মামলায় নুরুল আজিম ওরফে শালু (৫২), আলী আজগর (২৬), আলী আইয়াস সাকিব (২৪), মো. সজিব (২২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, হামলার পর এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা দ্রুত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হামলায় মদদদাতা হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে বয়সসীমা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. ইউসুফ জামিল, সদস্যসচিব মো. আজিম পাইক, ৩৫ ও বেকারমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আল-আমিন রাজুসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মো. ইফতেখার চৌধুরী, মো. আব্দুস সালাম, আশিক, জাশেম ও তরিকুলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১২ সাল থেকে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানো ও বেকারত্ব নিরসনের দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বর্তমানে বয়সসীমা সংস্কার আন্দোলনের ব্যানারে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ন্যূনতম ৪০ বছর করার পাশাপাশি শিক্ষা ও পেশাভিত্তিক কিছু খাতে বয়সসীমা উন্মুক্ত রাখার দাবি জানানো হচ্ছে।
বিক্ষোভ থেকে সংগঠনটির নেতারা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
রাজু ভাস্কর্য বিক্ষোভ বয়সসীমা সংস্কার আন্দোলন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!