যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ২০২৬,৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ PM ৮৫
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৭

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার সাতজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি দেশীয় অস্ত্র ও চারটি মোবাইল ফোন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করত চক্রটি। অভিযানে চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে সম্প্রতি ২০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। টাকা না দিলে পুলিশ পাহারায় থাকলেও তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই পদ্ধতিতে বড়দীঘির পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও অর্থ দাবি করা হয়।

অভিযোগগুলো পাওয়ার পর চক্রটির সন্ধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তা নেয় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গভীর রাত থেকে হাটহাজারী, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০) এবং নুরুল আলম (৪০)।

অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি ও একটি টিপছোরা। পুলিশ বলছে, এসব অস্ত্র চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চট্টগ্রামের কয়েকজন আলোচিত সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাতেন। নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে বিদেশি নম্বর দিয়ে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কেবল অন্যদের নাম ব্যবহার করেই কাজ করছিলেন না; নিজেদের একটি আলাদা চাঁদাবাজি গোষ্ঠীও গড়ে তুলেছিলেন। প্রথমে সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে বিত্তবান ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যাচেষ্টাসহ আটটি মামলা রয়েছে। মো. মানিকের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির দুটি মামলা রয়েছে। অন্য চারজনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম চাঁদাবাজি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!