যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশে নামাল এডিবি

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ PM ৪০
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ শতাংশে নামাল এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভবন; ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এ হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল।

এডিবির হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে গতি ফিরলেও আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটি আগের তুলনায় কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এডিবির নতুন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং ঋণের উচ্চ ব্যয় বেসরকারি বিনিয়োগে চাপ তৈরি করছে। এসব বাধা দূর করা গেলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার আরও শক্তিশালী হতে পারে। সংস্থাটি আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবসার পরিবেশে দ্রুত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন এনেছে এডিবি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৮ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। জ্বালানি ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপ খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে ঝুঁকি থাকছে।

চলতি হিসাবের ক্ষেত্রেও চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখিয়েছে এডিবি। আগামী অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে সংস্থাটির পূর্বাভাস। আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে পরিবর্তন এ ঘাটতি বাড়াতে পারে।

তবে অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এডিবির মূল্যায়নে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কিছুটা সহায়তা করছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক লেনদেনের প্রবাহ বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

খাতভিত্তিক দৃষ্টিতে কৃষি ও সেবা খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিপরীতে শিল্প ও বিনিয়োগে জ্বালানি সংকট, উচ্চ ঋণব্যয় এবং বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা বাধা হয়ে থাকতে পারে।

এডিবি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কয়েকটি ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের দীর্ঘায়িত প্রভাব, বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

সেপ্টেম্বরের এডিবি পূর্বাভাসে তাই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও সেই গতি ধরে রাখতে সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এডিবি অর্থনৈতিক জিডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবছর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক মূল্যস্ফীতি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!