যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

কম-কার্বন ভবনে নির্মাণসামগ্রীর কার্বন নিঃসরণ কমানোর তাগিদ : আইইবির সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ PM | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ PM ৭০
কম-কার্বন ভবনে নির্মাণসামগ্রীর কার্বন নিঃসরণ কমানোর তাগিদ : আইইবির সেমিনারে বক্তারা

আইইবি মিলনায়তনে অতিথিবৃন্দ। ছবি: সবুজ নিশান

ভবনকে পরিবেশবান্ধব করতে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী নকশা যথেষ্ট নয়। ভবন তৈরিতে ব্যবহৃত সিমেন্ট, স্টিল, ইট, কাচসহ বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদন, পরিবহন ও ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়ায় কতটা কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, সেটিও হিসাবের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে কম-কার্বন ও বায়ো-বেসড নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রকৌশলী ও স্থাপত্য বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সদর দপ্তরের শহীদ প্রকৌশলী ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ইঞ্জিনিয়ারিং লো-কার্বন অ্যান্ড বায়ো-বেসড বিল্ডিংস’ শীর্ষক এ আয়োজনে নির্মাণখাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। তবে প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে এর ব্যবহার হতে হবে দায়িত্বশীল ও পরিকল্পিত।

আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, ভবিষ্যতের পুরকৌশলে নির্মাণসামগ্রী ও ম্যাটেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্ব আরও বাড়বে। নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো তৈরির জন্য উপযুক্ত নির্মাণসামগ্রী নির্বাচন এবং উপকরণের প্রকৌশলগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের আগে স্থানীয় আবহাওয়া, জলবায়ু ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা জরুরি।

সেমিনারে বিএইচটিইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী তানভীর মঞ্জুর বলেন, বাংলাদেশে স্থায়ী ভবন নির্মাণে কংক্রিট, রড, ইট ও সিমেন্টের ব্যবহার ব্যাপক। এসব উপকরণের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য কার্বন নিঃসরণ হয়। বিশেষ করে সিমেন্ট তৈরির সময় ক্লিংকার উৎপাদনে উচ্চ তাপমাত্রার কিলন এবং চুনাপাথরের ক্যালসিনেশন প্রক্রিয়া থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়।

তাঁর মতে, ভবনের পরিবেশগত প্রভাব নির্ধারণে শুধু ভবন ব্যবহারের সময়ের বিদ্যুৎ খরচ বিবেচনা করলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। নির্মাণসামগ্রী তৈরির পর্যায় থেকে শুরু করে পরিবহন, নির্মাণ, ব্যবহার এবং ভবন ভাঙার পর উপকরণ পুনর্ব্যবহার—সব ধাপের কার্বন নিঃসরণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

নকশার শুরুতেই কার্বনের হিসাব

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলশ স্কুল অব আর্কিটেকচারের সহযোগী অধ্যাপক ড. এশরার লতিফ।

তিনি বলেন, একটি ভবনের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে হলে নকশার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই উপকরণ নির্বাচন, নির্মাণপদ্ধতি এবং ভবনের শক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। সিমেন্ট, স্টিল, ইট ও কাচের মতো উপকরণ উৎপাদন ও পরিবহনের সময় যে নিঃসরণ হয়, সেটিও ভবনের মোট পরিবেশগত প্রভাবের অংশ।

এ ক্ষেত্রে লাইফ সাইকেল অ্যাসেসমেন্ট (LCA), এনভায়রনমেন্টাল প্রোডাক্ট ডিক্লারেশন (EPD) এবং ভবন ব্যবহারের পর প্রকৃত পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মতো পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

গবেষণা প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা জরুরি

বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশের নির্মাণখাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় ও জৈবভিত্তিক উপকরণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে।

কম-কার্বন নির্মাণসামগ্রীর মান নির্ধারণ, উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে নির্মাণখাতের পরিবেশগত চাপ কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সেমিনারে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোছা. ফেরদৌস বেগমসহ আইইবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইইবির পুরকৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী নেসার উদ্দিন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!