যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

পিডিবির সার্ভিস রুলস-২০২৬: কোটা বাড়ানোর দাবি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ PM ৬৪
পিডিবির সার্ভিস রুলস-২০২৬: কোটা বাড়ানোর দাবি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সার্ভিস রুলস-২০২৬ নিয়ে আপত্তি ও দাবির বিষয়ে সংগঠনের স্মারকলিপি। ছবি : সবুজ নিশান

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলস-২০২৬-এ পদোন্নতির কোটা বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন। সংগঠনটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশের কোটা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ প্রমোশনাল কোটা রাখার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছে।

পিডিবির নতুন সার্ভিস রুলস নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে সংগঠনটি পদোন্নতি কাঠামো, কোটাব্যবস্থা এবং ১৯৭৮ সালের একটি অফিস অর্ডারের আইনগত ভিত্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির প্রধান আপত্তি উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রমোশনাল কোটা বাড়ানোর প্রস্তাবকে ঘিরে। তাদের দাবি, বিদ্যমান ৩৩ শতাংশ কোটা নিয়েই নীতিগত ও সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে। সেটি ৫০ শতাংশে উন্নীত হলে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ আরও কমে যাবে এবং প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার পরিসর সংকুচিত হবে।

প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ভাষ্য, বিদ্যুৎ খাত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ খাতে প্রকৌশলী নিয়োগ ও পদোন্নতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয় থাকা দরকার। তাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর জন্য পদোন্নতির হার বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রকৌশলী কাঠামোর ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে।

স্মারকলিপিতে পিডিবির প্রস্তাবিত ক্যারিয়ার কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত পদোন্নতির ধারাবাহিক সুযোগ রয়েছে। তাই ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য কোনো পদোন্নতির সুযোগ নেই—এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না বলে সংগঠনটির দাবি।

নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির যোগ্যতা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে তারা। প্রস্তাবিত তফসিল অনুযায়ী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ৯ম বা তার ওপরে গ্রেডে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট পদে পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের সময় কমিয়ে দুই বছর করার দাবিকে অযৌক্তিক বলেছে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন।

এ ছাড়া ৯ম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী এবং ৬ষ্ঠ গ্রেডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের জন্য ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি কোটা নির্ধারণের দাবিরও বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি। তাদের যুক্তি, আলাদা গ্রেড, দায়িত্ব ও ক্যারিয়ার স্তরের পদকে একীভূত করে কোটা নির্ধারণ প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্মারকলিপিতে ৩১ জুলাই ১৯৭৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি অফিস অর্ডারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ওই আদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটদের সরাসরি নিয়োগের হার ৬৭ শতাংশ এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য ৩৩ শতাংশ প্রমোশনাল কোটা রাখার সুপারিশ ছিল।

তবে এই অফিস অর্ডার কোন কর্তৃত্বের ভিত্তিতে জারি হয়েছিল, এর প্রক্রিয়াগত বৈধতা কী এবং বর্তমান সার্ভিস রুলসের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংশ্লিষ্ট বিধি, প্রজ্ঞাপন বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে আদেশটি কার্যকর হয়েছিল কি না, সেটিও পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।

প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদের বিষয়টি স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির বক্তব্য, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদ লাভের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ কারণে নিয়োগ ও পদোন্নতির কাঠামো তৈরিতে মেধা, যোগ্যতা, শিক্ষাগত মান এবং সমতার নীতি বিবেচনায় রাখা উচিত।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটি চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রমোশনাল কোটা ৩৩ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিল এবং সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ প্রমোশনাল কোটা রাখার দাবিও প্রত্যাখ্যান করা।

একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সার্ভিস রুলস-২০২৬ থেকে সব ধরনের কোটাব্যবস্থা বাতিল, ১৯৭৮ সালের অফিস অর্ডারের আইনগত ভিত্তি ও বর্তমান প্রযোজ্যতা যাচাই এবং সহকারী প্রকৌশলী পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ অযৌক্তিকভাবে সীমিত না করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের মতে, পিডিবির সার্ভিস রুলস চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। তাদের দাবি, নতুন বিধিমালায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষতা ও পেশাগত ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।

প্রকৌশলী কোটা পিডিবি স্মারকলিপি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!