যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মস্তিষ্কের সুস্থতায় খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন যেসব খাবার

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৫ PM ৫৩
মস্তিষ্কের সুস্থতায় খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন যেসব খাবার

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত

শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দরকার। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী আখরোট, ডিম, তৈলাক্ত মাছ, মিষ্টি কুমড়ার বীজ ও বেরি জাতীয় ফল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যও গভীরভাবে সম্পর্কিত। কোনো একটি খাবার রাতারাতি স্মৃতিশক্তি বা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় না। তবে পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ কিছু খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ডা. সৌরভ শেঠীর পরামর্শ অনুযায়ী, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় আখরোট রাখা যেতে পারে। এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এসব উপাদান অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা ও স্মৃতির জন্য সহায়ক হতে পারে।

ডিমও মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির একটি উৎস। এতে প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিন রয়েছে। কোলিন শরীরে অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই নিউরোট্রান্সমিটার স্মৃতি, শেখা এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তৈলাক্ত মাছেও রয়েছে মস্তিষ্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। বিশেষ করে ডিএইচএ ও ইপিএ মস্তিষ্কের বিভিন্ন কাঠামোগত ও কার্যকরী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর তৈলাক্ত মাছ রাখা তাই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

মিষ্টি কুমড়ার বীজও এই তালিকায় রয়েছে। এতে ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, কপার ও আয়রনের মতো বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। জিঙ্ক স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখে এবং ম্যাগনেসিয়াম স্বাভাবিক স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয়। এসব পুষ্টি উপাদান সামগ্রিকভাবে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

বেরি জাতীয় ফলও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব ফলে পলিফেনল ও অ্যান্থোসায়ানিনের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এগুলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বেরিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান মস্তিষ্কের কোষের পারস্পরিক সংযোগ ও বয়সজনিত জ্ঞানীয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

তবে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিকভাবে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টির প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

মস্তিষ্ক সুষম খাবার

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!